গত সপ্তাহে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনার পর থাইল্যান্ড জুড়ে নতুন করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান স্থগিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। পাশাপাশি তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা এবং কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত শুক্রবার ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলের নোন্থাবুরি এলাকায় ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর প্রথমে তার নিজের বাড়িতে থাকা দাদাকে (৭১) গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে তার স্কুলে গিয়ে পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মী এবং ১২ বছরের এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে। সর্বমোট ৬ জনকে স্কুলে হত্যার পর কিশোরটি নিজের ওপর গুলিবর্ষণ করে আত্মহত্যা করে। কিশোরটি তার দাদাকে হত্যা করতে এবং পরবর্তী তাণ্ডব চালাতে পরিবারের নিজস্ব বন্দুকটি ব্যবহার করে।
আজ মঙ্গলবার ‘তেম রাক সামাক্কি’ বৌদ্ধ মন্দিরে কয়েকদিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে নিহত দম্পতি ও কিশোর ঘাতকের সাদা কফিন পাশাপাশি রেখে শেষকৃত্য ও সৎকার সম্পন্ন করা হয়। আত্মীয়স্বজন ও শোকাহত সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।
পুলিশ ও তদন্তকারীরা এখনও এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছেলেটি অনলাইনে অতিরিক্ত সহিংস ভিডিও দেখতো এবং স্কুলেও পড়াশোনা নিয়ে মানসিক চাপে ছিল। সহপাঠীদের মতে সে বুলিংয়ের শিকারও হয়েছিল।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অস্ত্রের মালিকানার হার অন্যতম বেশি। ইতিপূর্বেও বিভিন্ন গণহত্যার পর আইন কড়াকড়ির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। তবে সাম্প্রতিক এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশকে নতুন যেকোনো অস্ত্রের ক্রয়, ব্যবহার ও বহন সংক্রান্ত লাইসেন্স ইস্যু অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।