চট্টগ্রামের বহুল প্রতীক্ষিত শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) থেকে চালু হওয়া এই এক্সপ্রেসওয়ে চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টোল আদায় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের গাড়ি থেকে টোল আদায়ের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রথম দিনের চিত্র
উদ্বোধনের দিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েতে ৫,৬৯৪টি যানবাহন চলাচল করে এবং টোল আদায় হয় ৩,৬২,৬০০ টাকা। সিএনজি, কার, জিপ, মাইক্রোবাস, পিকআপ, মিনিবাস, বাস, ট্রাক এবং কাভার্ডভ্যান এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল করছে।
তবে ট্রেইলার, মোটরসাইকেল এবং রিকশার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাঙ্ক্ষিত টোল আদায় কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
টোলের হার
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ১০ ধরনের গাড়ির জন্য নির্ধারিত টোলের হার চূড়ান্ত করেছে।
- সিএনজি অটোরিকশা: ৩০ টাকা
- কার: ৮০ টাকা
- জিপ ও মাইক্রোবাস: ১০০ টাকা
- পিকআপ: ১৫০ টাকা
- মিনিবাস ও চার চাকার ট্রাক: ২০০ টাকা
- বাস: ২৮০ টাকা
- ৬ চাকার ট্রাক: ৩০০ টাকা
- কাভার্ডভ্যান: ৪৫০ টাকা
প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য
- প্রকল্পের ব্যয়: ৪,২৯৮ কোটি টাকা
- দৈর্ঘ্য: লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত
- টোল আদায়ের বুথ: পতেঙ্গা প্রান্তে ৪টি বুথ
- পরিকল্পনা: নির্মাণাধীন ৯টি র্যাম্প চালু হলে যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে
সিডিএ’র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিদিন ১০-১১ হাজার যানবাহন এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল করছে। নির্মাণাধীন র্যাম্পগুলো চালু হলে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এই এক্সপ্রেসওয়ের নামকরণ করা হয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের নামে। তিনি চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র এবং ছাত্রদলের একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য ছিলেন।