তীব্র ও অসহ্য গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা জুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিপর্যয় তথা লোডশেডিং। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে যেমন সাধারণ নগরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, অন্যদিকে তেমনি বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের শিল্প-কারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে নগর এলাকার চেয়েও মফস্বল ও গ্রামগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেশি, যা গ্রামীণ জনজীবনকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
অথচ গ্রাহকদের এই চরম ভোগান্তির বিপরীতে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর খাতাপত্রে লোডশেডিংয়ের যে হিসাব দেখানো হচ্ছে, তা অতি সামান্য। পিডিবির এই কাগুজে রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তব চিত্রেন কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ সাধারণ গ্রাহকদের, যার প্রমাণ মিলেছে আজ শনিবারও—দিনের বেশিরভাগ সময়জুড়েই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছিল লোডশেডিংয়ের দাপট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জানা গেছে, চট্টগ্রামে মোট ২৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার অফ-পিক আওয়ারে (রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকাল ৫টা) চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৫৫৮.৯২ মেগাওয়াট এবং এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৫৫৫ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। অন্যদিকে পিক-আওয়ারে (বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা) বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৫৬৯.৪৩ মেগাওয়াট এবং উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৭৯৪.৫০ মেগাওয়াট। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই দিন অফ-পিক আওয়ারে লোডশেডিং ছিল মাত্র ২৮ মেগাওয়াট এবং পিক-আওয়ারে লোডশেডিং ছিল ৫১.৫০ মেগাওয়াট। কাগজ-কলমে পর্যাপ্ত উৎপাদন ও নামমাত্র লোডশেডিংয়ের এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
বাস্তব চিত্র কতটা ভয়াবহ তা ফুটে উঠেছে নগরীর চকবাজার থানার বাসিন্দা জাফর আজমী সামির কথায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ সকাল থেকে একটানা ৫ ঘণ্টা আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই। দিনের বেলা তো দুর্ভোগ আছেই, রাতের বেলাও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গরমে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছি না।” এই চরম ভোগান্তির বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পিডিবির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যখন বিদ্যুতের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি থাকে, তাকে ‘পিক-আওয়ার’ এবং রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়কে ‘অফ-পিক আওয়ার’ ধরা হয়। কিন্তু বর্তমানে পিক বা অফ-পিক কোনো সময়েই স্বস্তি মিলছে না চট্টগ্রামের গ্রাহকদের, ফলে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ নিয়ে চরম অসন্তোষ দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মনে।