কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব বোয়ালখালী এলাকায় পৈত্রিক কৃষিজমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে এক আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা, লোহা দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা এবং প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির ধারণ করা ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে যায় এবং এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
অভিযুক্তদের মধ্যে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা হামিদুর রহমান ও ইসলামী ব্যাংক মহেশখালী শাখার কর্মকর্তা লুৎফর রহমান ছাড়াও স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাজ্জাত হোসেন ও মো. রিফাত নামের দুই যুবক রয়েছেন। পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের এমন গুরুতর ঘটনায় সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য স্থানীয়দের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিরোধীয় পৈত্রিক জমিতে রোপণ করা ধান-শস্য নষ্ট করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান অভিযুক্তরা। এতে বাধা দিতে গেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী আনোয়ার পারভেজ রুবেল এবং তাঁর ভাই অধ্যাপক ড. ওমর পারভেজ রুমেলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত হামিদুর রহমান রড এনে আইনজীবী রুবেলের মাথা লক্ষ্য করে সজোরে আঘাত চালান। আইনজীবী দ্রুত সরে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণঘাতী আঘাত থেকে রক্ষা পান। পরবর্তীতে নিকটস্থ মসজিদে আযান শুরু হলে সেদিনের মতো পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে এর পরদিন, ৮ আগস্ট সকাল ১০টায় পুনরায় লাঠিসোটা নিয়ে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে ওই জমিতে ঢুকে খুঁটি গেড়ে দখলের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী পক্ষ ঘটনাটির ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে হামিদুর রহমান প্রকাশ্য নির্দেশ দিয়ে বলেন—“তোরা রুবেলকে বাড়ি মারিয়া মেরে ফেল।” স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সে যাত্রায় আইনজীবী উদ্ধার হলেও অভিযুক্তরা পরবর্তীতে “দেখে নেওয়া”, “মারধর করা” ও “লাশ গুম করার” হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে প্রফেসর ড. ওমর পারভেজ রুমেল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পৈত্রিক জমি দখলের উদ্দেশ্যে ফসল নষ্ট করা হয়েছে। আমার ছোট ভাই আইনজীবীকে সরাসরি রড দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। সমস্ত ঘটনার পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে। আমরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনাটি কেবল জমিজমার বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন আইনজীবীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, আইন হাতে তুলে নিয়ে হামলার চেষ্টা এবং ভিডিও ফুটেজে প্রকাশ্যে মারধরের নির্দেশ দেওয়ার মতো অপরাধের বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
চাঞ্চল্যকর ভাইরাল ভিডিওটির লিংক: https://www.facebook.com/share/r/1BhA6P9zLa/