ছুটিতে পরিবারের প্রিয় মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে কেনাকাটা সেরে এক বুক আশা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন পুলিশ কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু এক নির্মম সড়ক দুর্ঘটনা নিমেষেই সেই আনন্দকে ঢেকে দিল বিষাদের কালো ছায়ায়। ঘাতক গাড়ির ধাক্কায় কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ; প্রিয়জনদের কাছে তাঁর আর জীবিত ফেরা হলো না, ফিরলেন নিথর এক লাশ হয়ে।
আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের গিল্লাবাড়িয়া গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং গিল্লাবাড়িয়া গ্রামের মুন্সি হাজী বাড়ির আবদুল কাদেরের ছেলে।
স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসছিলেন জাহাঙ্গীর। পরিবারের জন্য কেনাকাটা শেষে শহরের হাসপাতাল মোড় থেকে টমটমযোগে বাড়ি ফেরার পথে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে কাজিরবাগ এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। বিপরীত দিক থেকে আসা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি জিপ গাড়ি একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে অটোরিকশাটি সজোরে জাহাঙ্গীরের টমটমটিকে আঘাত করে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় এলজিইডির ওই গাড়িতে ড্রাইভার মো. শামীমসহ ল্যাব টেকনিশিয়ান বিল্লাল ও মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, কনস্টেবল জাহাঙ্গীরের এই অকাল মৃত্যুতে সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ জানান, স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি ও এলজিইডির গাড়িটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।