একবার গভীরভাবে চিন্তা করুন, আমাদের দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার পরও হতাশ হয়ে পড়ে। সমস্যাটা দেখেছেন কেবল, কখনো কি কারণটা জানার চেষ্টা করেছেন?
কারণ, রাষ্ট্র সমস্যার সাথে সাথে তারা, কখনো তাদের ক্যারিয়ার সঠিক রোড়ম্যাপ পাইনি। অথচ, যদি সঠিক দিকনির্দেশনা পেতো বা থাকতো, জীবন হতে পারতো অনেক সহজ আর সফল। আজকের এ প্রতিবেদন থেকে জানার চেষ্টা করব, কিভাবে সঠিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার মাধ্যমে জীবনের এই চ্যালেঞ্জগুলো সহজ করা যায়।
সঠিক শিক্ষার ভূমিকা:
প্রথমেই বলি,ভালো শিক্ষা কেবল সার্টিফিকেট অর্জন করাই নয়, বরং এমন জ্ঞান,যা জীবনের জন্য একটি উপকারি হাতিয়ার। ভাবুন তো,আপনি যদি এমন বিষয় নিবার্চন করতে পারেন, যা আপনার আগ্রহ ও ভবিষ্যত চাকরির বাজারের সঙ্গে মিলে খায়, তাহলে আপনি জীবনের সাফল্যের দৌঁড়ে অনেটা এগিয়ে। যা আপনার জীবনের শুরুতে অনুপ্রেরণা হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। যেমন ধরুন, যদি আপনি প্রযুক্তি পছন্দ করেন, তাহলে আজই খুঁজে দেখুন— তথ্যপ্রযুক্তি,সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, বা গ্রাফিক্স ডিজাইনে, কি কি সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে এমনি করে, নিজের পছন্দের ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে পারেন নিজেই, একটি সঠিক সুন্দর,স্ব—নির্ভর ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে।
ক্যারিয়ার পরিকল্পনার অপরিহার্যতা:
পড়াশোনা গুরুত্বপূর্ন, তবে তার চেয়েও জরুরি আপনার ক্যারিয়ার ঠিকঠাকভাবে গড়ে তোলা। অনেকে ভাবেন, একাডেমিক পড়াশোনাই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে কাজের অভিজ্ঞতা আপনাকে আরও বেশি আলদা মর্যাদা সম্পন্ন করে তুলবে। যেমন: ইন্টার্নশিপ বা ফ্রিল্যান্সিং কাজ আপনাকে শুধু দক্ষতাই বাড়াবে না, বরং বাস্তব জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবে,যা আপনার চলার পথকে করবে আরও সহজ এবং সরল।
ক্যারিয়ার গড়ায় একজন অভিভাবকের ভূমিকা:
আমাদের দেশের পেক্ষাপটে অপরিকল্পিত ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে অধিকাংশে অভিভাবকরা দায়ী। তার কারণ, প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের বেশিরভাগ অভিভাবক, সন্তানের কিংবা ছাত্রছাত্রীর মেধা বা আগ্রহের প্রতি চরম অবহেলা করে, রীতিমতো জোর করে তার ইচ্ছের বিপরীত, একটি বিষয় নিবার্চন করে দেওয়া হয়, যা অভিভাবকের স্বপ্ন, একজন সন্তানের আগ্রহের বা মেধার স্বপ্ন নয়। ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আরেকটি বিষয় না বললে নয়, আমাদের দেশের অধিকাংশ অভিভাবকের ধারণা, এস.এস.সি কিংবা এইচ.এস.সি চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়ার পরই কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। আসলে কি তাই , মোটেও তা নয়, আপনি যদি আপনার সন্তানকে প্রাইমারি লেভেল থেকে একাডেমিক শিক্ষার সাথে সাথে কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলেন, তাহলে আপনার সন্তান সুনিশ্চিত ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় বর্তমান বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।
একটি গল্প দিয়ে শেষ করছি আজকের এ লেখা। রিফাত ইবনে মাসুম, গ্রামের ছেলে। সে সবসময় প্রযুক্তিতে মুগ্ধ ছিল। ছোটবেলা থেকে সে ডিজাইন শিখতে শুরু করেছিল, আর ইন্টারনেট থেকে ছোটকাটো প্রজেক্ট করতো। আজ সেই রিফাত দেশের অন্যতম সফল ডিজাইনার। এমন উদাহরণ আমাদের শিখিয়ে দেয়, লক্ষপূরণের জন্য শুধু পড়াশোনা নয়, চর্চা এবং নির্ভরযোগ্য গাইডেন্স জরুরি।
পরিশেষে বলি, শিক্ষা—জীবনের পথচলার প্রথম পদক্ষেপ, অন্যদিকে সঠিক ক্যারিয়ার পরিকল্পনাই হলো সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
এবার জীবনের প্রয়োজনে অবিচ্ছেদ্য বিষয়গুলো ধারণ করা বা না করা,আপনার সিদ্ধান্ত।
লেখক: অধ্যাপক ওমর
প্রকাশক, খবর ২৪ ঘন্টা