টেনিসের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। প্রিয় খেলা থেকে বিদায় নিলেন স্প্যানিশ কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল। গত অক্টোবরেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ডেভিস কাপ খেলেই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। তবে তার বিদায়টি যতটা বর্ণময় হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। বিদায় ম্যাচে দলকে জেতাতে পারেননি তিনি।
শেষ ম্যাচে হার
ডেভিস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন নাদাল। প্রথম সিঙ্গেলসে নেদারল্যান্ডসের বটিচ ফন ডি জান্ডশুল্পের কাছে ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে হারেন তিনি। এরপর স্পেনের কার্লোস আলকারাজ আরেকটি সিঙ্গেলসে জয় পান। তবে ফল নির্ধারণী ডাবলসে আলকারাজ ও মারসেল গ্রানোয়ার্স ৭-৬ (৭/৪), ৭-৬ (৭/৩) ব্যবধানে হেরে গেলে স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়।
অশ্রুসিক্ত বিদায়
ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় নাদালের চোখে জল দেখা যায়। দীর্ঘদিনের চোট আর বয়সের কারণে কোর্ট থেকে বিদায় নেওয়ার বাস্তবতা তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। বিদায়লগ্নে কেঁদে ফেলেন তিনি।
চোট আর ক্যারিয়ারের পতন
চোট নাদালের ক্যারিয়ারের শেষের দিকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরলেও ঊরুর চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে ছিটকে যান। ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রথম রাউন্ডেও জয় পাননি।
নাদালের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার
২৩ বছরের ক্যারিয়ারে নাদাল ২২টি গ্র্যান্ডস্ল্যামসহ ৯২টি শিরোপা জিতেছেন। সবচেয়ে বেশি ১৪টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনে। তবে চোট তার শরীরকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যে, খেলা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছিল না।
বিদায়ের বার্তা
নাদাল বলেন, “আমি টেনিস খেলতে ক্লান্ত নই। কিন্তু আমার শরীর আর খেলতে চায় না। এটি মেনে নেওয়া কঠিন, তবে বাস্তবতা। আমি খুব ভাগ্যবান যে আমার শখ দীর্ঘ সময় পেশা হিসেবে রাখতে পেরেছি।”
বিদায়ের আগে আবেগঘন বার্তায় নাদাল বলেন, “২০ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ার আমার। ভালো-খারাপ সময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।”