বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল মঞ্চে খেলার স্বপ্ন প্রতিটি বাংলাদেশী ফুটবলপ্রেমীর চিরন্তন। তবে এই স্বপ্ন কি ২০৩৪ সালের সৌদি আরব বিশ্বকাপে সত্যি হওয়া সম্ভব? তাত্ত্বিকভাবে বা সমীকরণের বিচারে উত্তরটি হচ্ছে—হ্যাঁ, সম্ভব; যদি বাংলাদেশ ফুটবল দল একটি দীর্ঘমেয়াদী ও বৈপ্লবিক রোডম্যাপের মধ্য দিয়ে অলৌকিক কিছু করে দেখাতে পারে।
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করায় এশিয়ার কোটা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ থেকে ৯টিতে (৮টি সরাসরি এবং ১টি আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ)। যেহেতু ২০৩৪ সালের আয়োজক দেশ সৌদি আরব নিজেই এশিয়ার পরাশক্তি, তাই তারা স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার পর বাকি ৭ থেকে ৮টি স্লটের জন্য এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। এই সমীকরণে বাংলাদেশ যদি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৮০-এর ঘর থেকে এক লাফে এশিয়ার শীর্ষ ১০ বা ১২টি দেশের কাতারে উঠে আসতে পারে, তবেই কেবল ২০৩৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের মূল ও চূড়ান্ত পর্বে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অর্জন করবে।
৪৮ দলের বিশ্বকাপে এশিয়া অঞ্চল (AFC) থেকে সরাসরি ৮টি দেশ এবং প্লে-অফের মাধ্যমে আরও ১টি দেশ যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় বাছাইপর্বের সমীকরণ এখন চার রাউন্ডের এক দীর্ঘ পথ। ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপে যেতে হলে বাংলাদেশকে সবার আগে প্রথম রাউন্ডে এশিয়ার সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংয়ের (২৬ থেকে ৪৭ নম্বর) দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে নক-আউট ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে অর্থাৎ ‘গ্রুপ পর্বে’ জায়গা করে নিতে হবে।
আসল লড়াই শুরু হবে এই দ্বিতীয় রাউন্ডে, যেখানে এশিয়ার শীর্ষ ৩৬টি দেশ ৯টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। বাংলাদেশকে এই রাউন্ডে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে টপকে নিজ গ্রুপের শীর্ষ দুটি দলের একটি হতে হবে। যদি বাংলাদেশ নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স-আপ হতে পারে, তবে তারা সরাসরি ২০৩৫ এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করবে এবং একই সাথে পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপের তৃতীয় রাউন্ডে বা ‘এশিয়ান চূড়ান্ত বাছাইয়ে’।
চূড়ান্ত এই তৃতীয় রাউন্ডেই নির্ধারিত হয় এশিয়ার মূল পরাশক্তি কারা। এখানে টিকে থাকা শীর্ষ ১৮টি দলকে ৬টি করে মোট ৩টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। এই ৩টি গ্রুপের প্রতিটির শীর্ষ দুটি দল (মোট ৬টি দেশ) সরাসরি ২০৩৪ বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যাবে। বাংলাদেশ যদি এই রাউন্ডে নিজ গ্রুপে প্রথম বা দ্বিতীয় হতে না পারে, তাহলেও স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে না; তবে শর্ত হচ্ছে গ্রুপে অন্তত তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে থাকতে হবে। গ্রুপে তৃতীয় বা চতুর্থ হলে বাংলাদেশ সুযোগ পাবে চতুর্থ রাউন্ডে (এশিয়ান প্লে-অফ)। এই রাউন্ডে মোট ৬টি দলকে ৩টি করে ২টি গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং এই দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি এশিয়ার ৭ম ও ৮ম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে চলে যাবে। এমনকি এখানে রানার্স-আপ হলেও আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের মাধ্যমে ৯ম দেশ হিসেবে শেষ একটা সুযোগ থাকবে।
অর্থাৎ, ২০৩৪ সালের বিশ্বমঞ্চে যেতে হলে বাংলাদেশকে অন্তত এশিয়ার শীর্ষ ১৮টি দেশের গ্রুপে ঢুকে (৩য় রাউন্ড) সেখানে চমক দেখাতে হবে, যা বর্তমান র্যাঙ্কিং অনুযায়ী বাংলাদেশের জন্য এক মহাকঠিন কিন্তু গাণিতিকভাবে সম্ভব একটি সমীকরণ।