কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইউছুফেরখীল এলাকায় জমি বিক্রি এবং রেললাইনের অধিগ্রহণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত নুরুল আবছার প্রকাশ আচ্ছরি’কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামী জামিন আবেদন করতে গেলে বিজ্ঞ বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে ‘সি/ডব্লিউ’ (C/W) মূলে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিআর মামলা নং- ৩০/২০২৬ (ঈদগাঁও)-এর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী নুরুল আবছার ঈদগাঁওয়ের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউছুফেরখীল এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মানুষকে জমি বিক্রির টোপ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের মেগা প্রকল্প দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইনের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আজ আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলার নথিপত্র ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিজ্ঞ বিচারক আসামীর জামিন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।
মামলার বাদী ও স্থানীয় ভুক্তভোগী সূত্রগুলো জানায়, আসামী নুরুল আবছার প্রকাশ আচ্ছরির প্রতারণার জাল এতটাই বিস্তৃত ছিল যে তিনি নিজের আপন সহোদর বড় ভাই ছফর আলমকেও রেহাই দেননি। বিনিয়োগের প্রলোভন, জমি বিক্রি এবং রেল লাইন অধিগ্রহণের সরকারি টাকা দ্রুত তুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি নিজের ভাইয়ের কাছ থেকেই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর তিনি দিনের পর দিন সময়ক্ষেপণ করতেন এবং একপর্যায়ে পাওনাদারদের সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। তার এমন ধারাবাহিক প্রতারণায় এলাকার একাধিক পরিবার আজ আর্থিকভাবে নিঃস্ব ও চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
প্রভাবশালী এই প্রতারক নুরুল আবছার কারাগারে যাওয়ার খবরে পুরো ঈদগাঁও এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, তার বিরুদ্ধে এলাকায় আগে থেকেই নানা অপকর্মের অভিযোগ থাকলেও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সবসময় পার পেয়ে যেতেন। আজ আদালত কর্তৃক তিনি হাজতে প্রেরিত হওয়ায় অন্য ভুক্তভোগীরাও এখন মুখ খোলার এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পাচ্ছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন এই জালিয়াতির ঘটনার পেছনে আরও কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাদের আত্মসাৎকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।