ভারতের বিহার রাজ্যের বাঁকা জেলার জামাধা ওপি এলাকার রাধা-কৃষ্ণ মন্দির থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে দুই সন্তানসহ এক বাংলাদেশি দম্পতিকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) বাঁকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত তিন দিন ধরে ওই পরিবারটি পরিচয় গোপন করে ওই মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল।
মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক বিজয় রাই ওই দম্পতির সন্দেহজনক গতিবিধি ও কথাবার্তা লক্ষ্য করে স্থানীয় থানায় খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, আটককৃত ব্যক্তির নাম মিল্টন হালদার, যার বাড়ি বাংলাদেশের বরিশালে। আর তাঁর স্ত্রীর নাম ঝুমারানি দাস, যিনি ঢাকার মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা। ভারতে প্রবেশ বা অবস্থানের জন্য তাঁদের কাছে পাসপোর্ট বা ভিসাসহ কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চারজনকেই আদালতের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই দম্পতি পুলিশকে জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে এক দালালের মাধ্যমে ২০ হাজার রুপি দিয়ে তাঁরা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হন। গ্রেপ্তারের ভয়ে তাঁরা প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছান এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে উত্তর প্রদেশের বৃন্দাবনে চলে যান। বৃন্দাবনের বিভিন্ন মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার পর, সম্প্রতি তাঁরা বিহারের বাঁকায় আসেন এবং এই রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে আশ্রয় নেন।
এই দম্পতি কোন রুট ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং এর পেছনে স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বা আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বাঁকা জেলার পুলিশ সুপার আমিতেশ কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনো গুপ্তচরবৃত্তির যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সম্পর্কে দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে পুরো পরিবারটিকে ভাগলপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়েছে।