কোনো প্রকার সঠিক তথ্যপ্রমাণ ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে একশ্রেণীর বেনামী ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবভিত্তিক তথাকথিত ‘নিউজ পোর্টাল’। চমকপ্রদ ও চটকদার শিরোনাম ব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা এসব অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সচেতন মহল।
সম্প্রতি দেখা গেছে, দেশে ঘটে যাওয়া যেকোনো ছোট-বড় ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো রকম তথ্যের সত্যতা না জেনেই ভিউ ও ক্লিক পাওয়ার আশায় বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ও এডিটেড ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার মতো চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সংবেদনশীল ও জাতীয় ইস্যুতে গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে এক শ্রেণীর সুযোগসন্ধানী চক্র।
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলধারার পেশাদার সংবাদমাধ্যমগুলো যেখানে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ করে, সেখানে এসব বেনামী পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল কোনো আইন বা নীতিমালা তোয়াক্কা করছে না। এদের কোনো নির্দিষ্ট অফিস, সম্পাদক বা দায়বদ্ধতা না থাকায় অপরাধ করেও তারা অধরা থেকে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ ও কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইন জোরদারের মাধ্যমে এসব বেনামী পোর্টাল বন্ধের পাশাপাশি ভুয়া খবর ছড়িয়ে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও যেকোনো সংবাদ শেয়ার বা বিশ্বাস করার আগে উৎস যাচাই করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।