পৃথিবীর মানচিত্রে এক বিশাল দ্বীপ, আবার নিজেই একটি মহাদেশ— অস্ট্রেলিয়া। নীল সমুদ্রের ঢেউ আর আদিম মরুভূমির লাল ধুলোর মিশেলে এই দেশটি যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেয়ালি ক্যানভাস। ওশেনিয়া অঞ্চলের এই দেশটিকে আমরা মূলত ক্রিকেট আর ক্যাঙ্গারুর জন্যই চিনি। কিন্তু আপনি কি জানেন, এখানে এমন এক যুদ্ধ হয়েছিল যেখানে সেনাবাহিনী হেরে গিয়েছিল পাখির কাছে? কিংবা এখানকার এক একটি খামার আয়তনে আস্ত একটি দেশের সমান?
চলুন ডুব দেওয়া যাক অস্ট্রেলিয়ার ৫টি রোমাঞ্চকর ও অজানা তথ্যে:
১. অদ্ভুত সেই ‘ইমু যুদ্ধ’ (The Great Emu War)
ইতিহাসে অনেক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কথা শোনা যায়, কিন্তু পাখির বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা শুনেছেন কি? ১৯৩২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ২০,০০০ ইমু পাখি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার মেশিনগানসহ সেনাবাহিনী পাঠায়। মজার ব্যাপার হলো, ক্ষিপ্র গতির ইমুদের সাথে সেনারা পেরে ওঠেনি। হাজার হাজার রাউন্ড গুলি খরচ করেও খুব সামান্য পাখিই মারা পড়েছিল। শেষমেশ সেনাবাহিনী পরাজয় স্বীকার করে পিছু হটে! এটি ইতিহাসে ‘গ্রেট ইমু ওয়ার’ নামে পরিচিত।

গ্রেট ইমু ওয়ার
২. জাতীয় প্রতীকের পেছনে এক গভীর দর্শন
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় প্রতীকে (Coat of Arms) দুটি প্রাণীকে দেখা যায়— ক্যাঙ্গারু এবং ইমু। কেন এই দুটি প্রাণীকেই বেছে নেওয়া হলো? এর কারণ হলো, ক্যাঙ্গারু এবং ইমু—উভয় প্রাণীই শারীরবৃত্তীয় কারণে সহজে পিছন দিকে হাঁটতে পারে না। তারা কেবল সামনের দিকেই এগোতে পারে। অস্ট্রেলিয়া জাতি হিসেবে সবসময় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে—এই গভীর ও প্রেরণাদায়ক বার্তা দিতেই এই দুটি প্রাণীকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
৩. পৃথিবীর একক প্রাণীকুল ও প্লাটিপাস রহস্য
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৮০% থেকে ৯০% উদ্ভিদ ও প্রাণী পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। এর মধ্যে সবচেয়ে অদ্ভুত হলো প্লাটিপাস। যখন প্রথম এই প্রাণীর নমুনা ইউরোপে পাঠানো হয়েছিল, বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন এটি বোধহয় কেউ মজা করে হাঁসের ঠোঁট আর উদবিড়ালের লেজ জোড়া লাগিয়ে পাঠিয়েছে! ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী এই প্রাণীটি আজও বিজ্ঞানীদের কাছে এক পরম বিস্ময়।
৪. গোলাপি রঙের মায়াবী হ্রদ
অস্ট্রেলিয়ায় গেলে আপনি এমন এক লেক দেখতে পাবেন যার জল পুরোপুরি গোলাপি! পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ‘লেক হিলিয়ার’ (Lake Hillier) এর উজ্জ্বল গোলাপি রঙের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পানি গ্লাসে তুলে নিলেও এর গোলাপি আভা একদমই কমে না।
৫. আস্ত দেশের চেয়ে বড় গবাদি পশুর খামার
অস্ট্রেলিয়ার আয়তন বিশাল হলেও এর জনসংখ্যা সেই তুলনায় অনেক কম। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ‘অ্যানা ক্রিক স্টেশন’ নামক গবাদি পশুর খামারটি আয়তনে প্রায় ২৩,০০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি। এটি আয়তনে ইসরায়েল বা বেলজিয়ামের মতো আস্ত একটি দেশের চেয়েও বড়!

গবাদি পশুর খামার
অস্ট্রেলিয়ার এই বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি আর অদ্ভুত ইতিহাস কি আপনাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলল? সিডনি অপেরা হাউসের বাইরেও এই দেশটিতে দেখার মতো কত কিছুই না আছে!