Home » হাসির আড়ালে লুকানো কষ্ট

হাসির আড়ালে লুকানো কষ্ট

by খবর ২৪ ঘন্টা
0 comments 170 views
A+A-
Reset

রাত গভীর। গ্রামের নিস্তব্ধ রাস্তার ধারে ছোট্ট মুদি দোকানটার ঝাঁপ তোলা। আব্দুল কাদের তার পুরোনো হিসেব খাতার পাতা উল্টে যাচ্ছেন। মাথায় চিন্তার ভাঁজ। এই দোকানের আয়ে তার সংসার চলে। স্ত্রী, তিন সন্তান—সবার ভার তার এই সামান্য দোকানের ওপর।

তার একমাত্র মেয়ে রুমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। সামনে বিয়ের তারিখ। এই আনন্দের খবরটা মুখে হাসি নিয়ে সবাইকে জানিয়েছিলেন কাদের। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে যে কত রাত তিনি নির্ঘুম কাটিয়েছেন, তা কেউ জানে না। মেয়ে বিয়ে মানেই তো হাজারো খরচ। অতিথি আপ্যায়ন, উপহার, বিয়ের পোশাক—সবকিছুতেই টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এই দোকানের আয় দিয়ে তার পক্ষে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব কি?

দিনভর দোকানে ক্রেতাদের হাসিমুখে সেবা দেন তিনি। কেউ হয়তো বলে, “কাদের ভাই, একটা চা দিন তো!” হাসি মুখে চা বানিয়ে দেন। কেউ বলে, “কাল বাকিতে জিনিস নেব, কিছু মনে করবেন না।” তিনিও কিছু মনে করেন না। কিন্তু দোকান ফাঁকা হলে মুখটা মলিন হয়ে যায়। তার চোখে তখন হিসেবের খাতা আর মেয়ের বিয়ের খরচ ঘুরপাক খায়।

বাড়ি ফিরে স্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করেন, “সব ঠিক আছে তো? টাকা জোগাড় হলো?” কাদের তখন শুধু বলে, “হবে, চিন্তা করো না।” কিন্তু স্ত্রী জানেন, এই হবে কথার পেছনে কতটা অনিশ্চয়তা লুকানো।

কাদের রাতে ঘুমাতে পারেন না। তার মেয়ের চোখে বিয়ের স্বপ্ন জ্বলজ্বল করে। রুমা বলে, “বাবা, আমার জন্য বেশি কিছু লাগবে না। সবার মতো একটু সাধারণভাবে বিয়ে হলে আমার চলবে।” মেয়ের এই কথাগুলো শুনে কাদেরের বুক চিরে কষ্ট বেরিয়ে আসে। সে জানে, তার মেয়ে সামান্যতেই খুশি, কিন্তু বাবা হিসেবে তার তো দায়িত্ব তাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় দেওয়া।

কাদের ভাবেন, আর কী কী বিকল্প আছে? নিজের শেষ জমিটুকু বিক্রি করবেন? বন্ধুর কাছ থেকে ধার করবেন? কিংবা গ্রামের সমিতি থেকে ঋণ নেবেন? তিনি জানেন, যে পথই বেছে নেন, তার জীবনের কষ্ট আরও বাড়বে। তবু এই সংগ্রাম তার হাসি মুখে মেনে নিতে হয়।

সকাল হলে আবার দোকান খুলবেন। আবার হাসি মুখে ক্রেতাদের সেবা দেবেন। কিন্তু রাতের এই নির্ঘুম সময়গুলোতে, মেয়ের বিয়ের চিন্তা তাকে কুরে কুরে খায়। এই সংগ্রাম শুধু কাদেরের একার নয়, এটি হাজারো বাবার গল্প। তারা কষ্ট সহ্য করেন, হাসি মুখে থাকেন, কিন্তু তাদের বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকে অগণিত দুঃখ।

কাদের জানেন, তার এই সংগ্রাম একদিন সার্থক হবে। তার মেয়ে হাসি মুখে শ্বশুরবাড়ি যাবে। আর তিনি? হয়তো একটু স্বস্তি নিয়ে ভাববেন—”যা করেছি, আমার সন্তানের জন্যই করেছি।”

লেখক: মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন

You may also like

Leave a Comment

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: গুলজার টাওয়ার (২য় তলা), চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com